অষ্ট্রেলিয়া প্রানি বৈচিত্রের স্বর্গ। কত ধরনের আর কত প্রজাতির প্রানীর বসবাস যে এই অষ্ট্রেলিয়ায় তা তো টেলিভিশনের কল্যানে সকলেই একটু আধটু দেখেছেন। আর প্রানি জগতের এই স্বর্গ রাজ্য অনেকের কাছে অনেক সুন্দর জগত মনে হতেই পারে, কিন্তু এখন আপনাদের এমন কিছু ছবি দেখাবো যা দেখে আপনার মনে একটা কথাই বার বার উঁকি দেবে আর তা হল কি ভয়ংকর এই অষ্ট্রেলিয়া। চলুন তাহলে দেখে নেই ছবি গুলি,
বিশ্বের সব থেকে বড় বাদুর, যা "উড়ন্ত শিয়াল" নামে পরিচিত। আর এই বিশাল বাদুড় মাঝে মাঝে পরিনত হয় বিশাল অজগরের শিকারে।
অষ্ট্রেলিয়ার অজগর এতই বড় হয় যে তা জলাশয়ের মধ্য দিয়ে আস্ত একটা মহিষকে টেনে তুলতে পারে।
মাঝে মাঝে এই অজগর আবার বিভিন্ন দোকানের মধ্যেও ঘুরেফিরে বেড়াতে দেখতে পাওয়া যায়।
টয়লেটে যেয়েও শান্তি নাই, চিপাচাপার মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে সাপ। তাই বসার আগে একটু সাবধান।
৬ ফুট লম্বা টিকটিকি জাতীয় প্রানি "ইগোওয়ানা" কে শিকার করার মত সাপের অভাব নাই অষ্ট্রেলিয়াতে।
গলফ খেলতে গেলেও শান্তি নাই। এইখানেও চিপাচাপায় পেয়ে যাবেন সাপ।
কেমন দেখলেন বিশ্বর সব থেকে বড় বাদুড়। এর মুখটা শিয়ালের মত আর এ কারনেই এর নাম "উড়ন্ত শিয়াল"।
গলফ খেলতে যেয়ে বল পানিতে পরে গেলে সাবধান, এই পানিতেও থাকতে পারে হাঙ্গর মাছ।
অষ্ট্রেলিয়ার হাঙ্গর মাছও কিন্তু সমুদ্রের ঢেউএ সার্ফিং করতে কিন্তু ভালবাসে।
শুধু হাঙ্গর মাছ না, এখানকার কুমিড়রাও সার্ফিং করতে ভালবাসে।
বর্ষাকালে ঢাকার রাস্তাঘাটে পানি জমে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু অষ্ট্রেলিয়ায় এমনটি হলে কুমির কিন্তু একটু সাঁতরাতে আসতেই পারে।
কুমিড়কে ভয় পান? তাহলে আস্ত এই কুমিরকে গিলে ফেলা এই অজগরকে কতটুকু ভয় পাওয়া উচিৎ, আপনারাই চিন্তা করেন।
কুমিড়ের আঁকার দেখেছেন? এই বিশাল বিশাল আকৃতির কুমিড়ের পূন্যভূমি হল এই অষ্ট্রেলিয়া।
অষ্ট্রেলিয়ায় আপনার বালিশের মধ্যে খুব সহজেই খুঁজে পাবেন এই এটুল বা এটেল পোকা। এরা কিন্তু জীবন ধারন করে আপনার রক্ত খেয়ে আর রক্ত খেয়ে কেমন আঁকার ধারন করতে পারে তা উপরের ছবি দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।
মাকড়শা সেতো গাছে ফুলের মত ধরে অষ্ট্রেলিয়ায়। আসলে সম্পূর্ন গাছ জুড়ে মাকড়শার এরূপ বিচরন কিন্তু অষ্ট্রেলিয়াতে প্রথম না। এটা প্রথম হয় পাকিস্থানে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম "প্রকৃতির ১৫টি বিস্ময়" লেখায়।
এক দল "Sydney Funnel Web Spider"। এই মাকশাড়ার প্রজাতি পৃথিবীর সব থেকে বিষধর প্রজাতি গুলির মধ্যে অন্যতম। এদের অনায়াসে খুঁজে পাবেন খালি বালতি বা কোন ড্রামের মধ্যে।
উপরের ঐ মাকড়শার মত বিষধর Millipedes নামের বিছাগুলিও খুঁজে পাবেন কোন খালি পাত্রের মধ্যে।
এটাকে চিনতে কি খুব বেশি কষ্টো হচ্ছে? এটা হচ্ছে "পৃথিবীর সব থেকে বড় কেঁচো"।
বর্ষার সময়ে যারা ঝিঝি পোকার ডাক শুনে পুলকিত হন তারা নিশ্চই এই বিশাল আর উদ্ভট আকৃতির ঝিঝি পোকা দেখেও পুলকিত হচ্ছেন।
এক কথায় বলতে পারেন দৈত্যাকার বিছা। এগুলা এতটাই বড় আর বিষধর হয় যে এরা কোবরা সাপকে মেরে খেয়ে ফেলতে পারে। আর এগুলার খোঁজ পাবেন শুধু মাত্র অষ্টেলিয়ায়।
এটা কি আবার সমুদ্র পারের উপর? আরে চিনলেন না? এটা হল বিশ্বের সব থেকে বড় প্রজাতির জেলি ফিস।
এই ছোট্ট বোতলে যে ছোট্ট প্রানিটি দেখছেন এরা "Irukandji" প্রজাতির জেলিফিশ। এদের নাম "Kingslayer"। অষ্ট্রেলিয়ায় যত প্রজাতির বিষধর প্রানি আছে, সব গুলির মধ্যে এটি সব থেকে বেশি বিষধর। এর বিষ কোবরা সাপের থেকে ১০০ গুন বেশি বিষধর। কোন ফাঁকে আর কেমন ভাবে যে এর শিকারে পরিনত হবেন তা নিজেও টের পাবেন না।
উপরে যে প্রানিটির ছবি দেখছেন এর নাম "Blue Ringed Octopuses"। এটি একমাত্র অক্টোপাস যা মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। আর এর বিষের কোন ঔষধ এখন পর্যন্ত আবিস্কার হয় নাই। আর এই অক্টোপাসের দেখা মেলে শুধু মাত্র অষ্ট্রেলিয়ায়।
উপরের ছবিটিতে যে প্রানির ছবি দেখতে পাচ্ছেন তার নাম "Stone Fish"। আর এটি হচ্ছে বিশ্বের সব থেকে বিষধর মাছ। আর এর দেখা অহরহ মেলে অষ্ট্রেলিয়ার সমুদ্র অঞ্চলে।
জলাশয় দেখে কি সাঁতার কাঁটার ইচ্ছা করছে? তাইলে আপনার দেহের ছিদ্র গুলিকে একটু সাবধানে রাখবেন। কেন বললাম? উপরের ছবিটির নোটিশ বোর্ডটি মন দিয়ে পড়ুন। কি বুঝলেন?
এখন বলুন দেখি, "যাবেন নাকি অষ্ট্রেলিয়া???"
লেখকঃ জানা অজানার পথিক।